Photography
৬ টি কাজ করলে আপনিও হবেন একজন সফল উদ্যোক্তা
Posted on 2020-04-16 06:38:14

১। লক্ষ্য অর্জনে যথেষ্ট আগ্রহী হতে হবে: সাফল্য অর্জনের জন্য যদি তীব্র পরিমাণে উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ না করে, তবে সেই কাজ যথা সময়ে সঠিকভাবে সম্পন্ন হয় না। উদ্যোক্তা হিসাবে যদি আপনার মাঝেই উৎসাহ-উদ্দীপনার অভাব কাজ করে, তাহলে ভেবে দেখুন এর প্রভাবে আপনার স্টার্টাপের অন্যান্য সদস্য এবং কাস্টমারের অবস্থা কী হবে। আপনার উৎসাহ উদ্দীপনা দেখেই আপনার টিমের সদস্যরা অধিক কাজ করতে উৎসাহিত হবে। উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে যখন আপনি এবং আপনার টিম কাস্টমারদের সেবা প্রদান করবেন, তখন কাস্টমারের ও আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রতি আগ্রহ বাড়বে। কাস্টমারকে খুশী রাখাই একটি প্রতিষ্ঠান মূল উদ্দেশ্য। তাই কাস্টমার যখন আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রতি খুশি হবে, তখন আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনি উদ্যোক্তা হিসেবে সফলতার দিকে এগিয়ে গেলেন।

২।  কঠোর পরিশ্রম করুন: 
একটি জিনিস আমাদের সবার মাথায় ভালো করে গেঁথে নেয়া দরকার। আর সেটি হচ্ছে সফলতা কোন সময়ই রাতারাতি অর্জিত হয় না। আমরা অনেককে রাতারাতি সফল হতে দেখে এই ভুল ধারণাটি আমাদের মাঝে জন্মে যায়। কিন্তু সাফল্যের পিছনে যে কত রাতের পরিশ্রম রয়েছে সেটি আমরা জানার চেষ্টা করি না। ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে বসে থাকলে সাফল্যের ছোঁয়া পাওয়া বড়ই মুশকিল।

কঠোর পরিশ্রম দ্বারা ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারলেই হাতে ধরা দেবে সাফল্য। একজন সফল উদ্যোক্তা সকল কাজে নিজের সর্বোচ্চটুকু দেয়। আপনি যদি লক্ষ্য অর্জনের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যান তবে আপনার হতাশ হওয়ার কোন কারণই নেই। সাফল্য কোন না কোন সময় আপনার কাছে ধরা দেবেই।

৩। নিজের উপর বিশ্বাস স্থাপন করুন:
বাস্তব জীবনের অনেক কিছুই কাগজে কলমের যুক্তিতে মিলে না। কাগজ কলম এর হিসাব অনেক সময় আমাদের ভুল নির্দেশনা দেয়। এই হিসাব গুলো যদি আমাদের কল্পনার সাথে মিলে যায় তাহলে আমাদের মনে হয় এটাই বুঝি একমাত্র সমাধান। কিন্তু আসলে তা নয়। সাফল্যের আ আরও অনেক রাস্তা রয়েছে। সেই রাস্তা গুলো খুঁজে পেতে হয় নিজের বিচার-বিবেচনা দ্বারা। তাই কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার পূর্বে নিজের বিবেককে প্রশ্ন করুন। যদি আপনি নিজেকে সম্পূর্ণরূপে বিশ্বাস করেন তাহলে আপনার বিবেক আপনাকে ভুল নির্দেশনা দিবে না। নিজেকে সম্পূর্ণ বিশ্বাস না করলে আপনারা সিদ্ধান্তগুলো যথার্থ হবে না।

৪। নমনীয় হন তবে লক্ষ্য অর্জনে অটল থাকুন:
প্রত্যেক উদ্যোক্তা কেই সব সময় সব সময় চটপটে থাকতে হয়। নতুন তথ্যের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হয় এবং সে অনুযায়ী পরিবর্তন আনতে হয়। আবার সেই সাথে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনে থাকতে হয় সদা অটল। এখানেও বিবেক কাজে লাগে। প্রতিষ্ঠানিক কোন কোন পরিবর্তন আনলে তা লাভজনক হবে আবার কোন কোন পরিবর্তন আনলে প্রতিষ্ঠান ক্ষতির সম্মুখীন হবে তার জন্য বিবেকের কাছে প্রশ্ন করতে হবে।

যদি আপনি দৃঢ় চিত্তে বিশ্বাস করেন যে পরিবর্তন আনা উচিত তাহলে তা অবশ্যই করবেন। অন্যথায় আপনি এবং আপনার প্রতিষ্ঠান হতে পারেন ক্ষতির সম্মুখীন। অর্থাৎ যেই বিষয় গুলোতে নমনীয় হলে বাড়বে আপনার লক্ষ্য অর্জনের সম্ভাবনা, সেই বিষয়গুলোকে চিনতে পেরে নমনীয় হতে পারতে হবে।

৫। বাস্তবায়ন নিশ্চিত করুন:
আপনি যদি সাধারণ কেউ হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি এখন যে কাজটি করার কথা ভাবছেন সেই কাজটির আইডিয়া স্বাভাবিকভাবেই আরো অনেকের মাথায় আসার কথা। সফলতা অর্জনের জন্য যে চমকপ্রদ কোন আইডিয়া প্রয়োজন তা কিন্তু সব সময় সত্য নয়। অতি সাধারণ একটি আইডিয়ার খুব চমৎকার একটি বাস্তবায়ন এনে দিতে পারে অসাধারণ সাফল্য। খেলাধুলার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র পরিকল্পনা দ্বারাই কিন্তু খেলা জেতা যায় না। খেলা জেতার জন্য প্রয়োজন মাঠে নেমে যখন যা প্রয়োজন তা করতে প্রস্তুত থাকা।

ব্যবসার ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা প্রায় একই রকম। দেখা গেল যে আপনি আপনার স্টার্টআপের জন্য অনেক অনেক পরিকল্পনা করলেন, পাওয়ার পয়েন্ট স্লাইড বানিয়ে ভরিয়ে ফেললেন, কিন্তু এত এত পরিকল্পনার কোনো সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করলেন না। তাহলে কি লাভ হল এত কিছুর? কি করবেন এতো পরিকল্পনা দিয়ে?

অথবা দেখা গেল পরিকল্পনা করতে গিয়ে অনেক বেশি সময় ব্যয় করে ফেললেন। ফলে তা বাস্তবায়নের জন্য পেলেন খুবই স্বল্প সময়। বাস্তবায়ন করার সময় দেখা গেল আপনি আপনার ব্যবসার পরিবেশ যে রকম ভেবেছিলেন এখন আর সেরকম নেই। ফলে পূর্বের পরিকল্পনা খুব একটা কাজে আসছে না। পরিবর্তন আনতে হচ্ছে পরিকল্পনায়। কিন্তু আপনি প্রথম পরিকল্পনাতেই এত সময় ব্যয় করে ফেললেন যে নতুন পরিকল্পনা করার জন্য আপনার হাতে যথেষ্ট সময় নেই। এতে করে আপনার পুরো ব্যবসাটি বিশাল ক্ষতির সম্মুখিন হবে।

তাই পরিকল্পনার পেছনে খুব বেশি সময় অপচয় না করে বাস্তবায়নে নেমে পড়ুন। কারণ ব্যবসা করতে মাঠে নামলে পারিপার্শ্বিক অবস্থা বুঝতে পারা যায় এবং সেই অনুযায়ী তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আনা যায়। আর বাস্তবায়ন করতে গেলে অনেক নতুন জিনিস শিখতে পারা যায় যা পরবর্তীতে ব্যবসায়িক কাজে সহায়তা করবে। খেয়াল রাখবেন পারিপার্শ্বিক পরিবেশের পরিবর্তনের সাথে সাথে আপনার প্রতিষ্ঠান কর্মকাণ্ডের পরিবর্তন আনতেও যেন আপনি সদা প্রস্তুত থাকেন। এতে বাড়বে আপনার সফল হওয়ার সম্ভাবনা।

৬।  সততা এবং ন্যায়পরায়ণতা প্রদর্শন করুন:
ভন্ডামি করে হয়তোবা সাময়িক সাফল্য অর্জন করা যায়। কিন্তু এই সাফল্য বেশিদিন বিদ্যমান থাকে না। আপনি দেখবেন যেসব প্রতিষ্ঠান তার গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করেছে সে সব প্রতিষ্ঠান সাময়িক ভাবে বেশ লাভবান হলেও তাদের পতনও খুব দ্রুত ঘটেছে। দীর্ঘস্থায়ী সাফল্যের জন্য যে দুটি গুণ প্রয়োজন তা হচ্ছে সততা এবং ন্যায়পরায়ণতা।

আপনার কর্মকাণ্ডে এই দু’টি কোন প্রকাশ পাচ্ছে কিনা তা যাচাই করুন আপনার বিবেককে প্রশ্ন করার মাধ্যমে। এ দুটি গুণ কোন যদি আপনার মাঝে থাকে এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কর্মকাণ্ড গুলো যদি আপনি সঠিকভাবে সম্পাদন করতে পারেন তবে সফলতা আপনার থেকে খুব বেশি দূরে নেই।

সুত্রঃ ১০মিনিটস্কুল