Photography
ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করার গাইডলাইন - পর্ব ১
Posted on 2020-04-25 07:47:42

আসুন আগে জেনে নেই ই-কমার্স কি?

ইন্টারনেটের মাধ্যমে কেনাকাটার ধারাটা আমাদের দেশে দ্রুতই জনপ্রিয় হচ্ছে। অনলাইনে বসে কয়েকটা মাত্র ক্লিকে চাহিদা জানানো যাচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য চলে আসছে নিজের ঠিকানায়। বই, পোশাক, চাল-ডাল-সবজি, ইলেকট্রনিকস পণ্য কিংবা কোনো সফটওয়্যার—সবই বেচাকেনা করা যায় অনলাইনে। আর এটাই ই-কমার্স। আর ই-কমার্সে তরুণ উদ্যোক্তাদের আগ্রহও বেশি।

পণ্য বিক্রি করতে যেমন দোকান লাগে, ই-কমার্সেও তা-ই। একটি ই-কমার্স সাইট এখানে দোকান হিসেবে কাজ করে। তাই ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করতে প্রথমেই বেচাকেনার একটা সাইট বানাতে হবে। তবে আপনি সাইট শুরুতে না বানিয়েও আরো অনেক উপায়ে ই-কমার্স ব্যবসা করতে পারবেন। যেমন উদাহরণ হতে পারে ফেজবুক পেইজ। ফেজবুকে পেইজ তৈরি করে আপনি ই-কমার্স বিজনেস শুরু করতে পারেন অল্প খরচে।

অন্যভাবে বললে আমরা বুঝি যে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যবসায়ীক লেনদেন ও সুবিধা ব্যবহার করাকে ই-কমার্স বলে। এটি ইন্টারনেট কমার্সকে সংক্ষেপে ই-কমার্স বলা হয়। অনলাইনে পণ্য বেচাকেনা এর সহজ উদাহরণ। বস্তুত, যে কোনো ব্যবসায় ইলেক্ট্রনিক্সের মাধ্যমে পরিচালনা করাই হল ই-কমার্স। ই-কমার্সের প্রধানতম সুবিধা হল সময় ও ভৌগলিক সীমাবদ্ধতা দূর করে। অনেক ক্ষেত্রে এটি সহজে পণ্য বা সেবার প্রত্যাশিত মূল্য নির্ধারণ করে দেয়। অনেক গুলো সুবিদার মধ্যে কয়েকটি উল্লেখ করছি।

          ১। ঘরে বসে যেকোন পন্য ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবেন, 

          ২। ঘরে বসে ক্রয়-বিক্রয় কৃত পন্যের মূল্য পরিশুদ করা যায় বিভিন্ন ব্যাংকের ডেবিড-ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, কুরিয়ার সার্ভিস, পোষ্ট অফিস ইত্যাদির মাধ্যমে।

         ৩। আপনি ঘরে বসে পন্যের ছবি, সাইজ, রং, দর-দাম ইত্যাদি কাজ সম্পন্ন করতে পারেন। 


আপনি কেন ই-কমার্স ব্যবসা করবেন?

এই ব্যবসা সম্পর্কে আপনার বিশদ একটা ধারণা আছে, মানুষকে ভালো সার্ভিস কিভাবে দিতে হয় , প্রোডাক্ট নিয়ে আপনার চিন্তাভাবনা অন্য অনেকের থেকেই খুব সুচারুভাবে সম্পূর্ণ করতে পারবেন, তবেই এই ব্যবসা আপনার জন্য । তবে কথা হলো আপনি সময় নিন আপনার কি কি বিষয় জানা কম আছে যা এই ব্যবসায় নামার আগে আপনাকে কঠিন অবস্থার সম্মুখীন করতে পারে । 

১। টেকনিক্যাল বিষয় 

২।  প্রোডাক্ট সোর্সিং 

৩।  প্রোডাক্ট ডেলেভারি 

৪। পেমেন্ট 

৫। কমিনিকেশন 

৬। রিসার্চ, ডেভেলপমেন্ট 

৭। কাস্টমার সাপোর্ট 

৮। মার্কেটিং 

৯। পলিসি ঠিক করা , 

১০। আইনি বিষয়ে আপনাকে জানতে হবে ।


ই কমার্স এর সুবিধা ঃ 

১. খুব সহজে পন্য এবং সেবা খুজে পাওয়া যায়

২. সবসময় ব্যবসার জন্য অনলাইন স্টোরগুলি খোলা রাখা যায়।

৩. খুব দ্রুত ব্যবসা বৃদ্ধি পায়।

৪. খুব বেশী সংখ্যক অর্ডার আসলেও সেটা প্রক্রিয়া করা সম্ভব।

৫. খুব সহজে কাষ্টমারের তথ্য পাওয়া যায়। যেটা ব্যবহার করে পরবর্তীতে তাকে নতুন পন্য কেনার ব্যপারে উৎসাহ বা মার্কেটিং করা যায়।

৬. মেইনটেনেন্স খরচ দোকানের চেয়ে কম হয়ে থাকে।

৭. যে কেউ পন্য নিয়ে এই ব্যবসা করতে পারে। তার কোন দোকানের প্রয়োজন হয় না। শুধুমাত্র ফেজবুক পেজ অথবা ওয়েব সাইটে পন্যের ছবি আর দাম দিলেই হয়ে যায়।

৮. ২৪ ঘন্টাই ইনকাম করার পথ সুগম করে।

ই-কমার্সের অসুবিধা:

১. পন্যের গুনগত মান সবসময় ঠিক থাকে না।

২. বাজারে গিয়ে কেনার মানসিকতা এখনও আগের মতই জনপ্রিয় আছে। যদিও মনে করা হয়েছিল এই জনপ্রিয়তা কমে যাবে।

৩. মানুষকে অলস করে ফেলে। কারন সে বাজারে গিয়ে পায়ে হেটে বাজার করতে চায় না।

৪. ডেলিভারী চ্যানেল ভালো না হলে ই-কমার্সে ব্যবসায় আগানো যায় না।

৫. ২৪/৭ অনলাইন সাপোর্ট সব ই-কমার্স ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দিতে পারে না। সেক্ষেত্রে কাষ্টমার কোন কিছু জানতে চাইলে তার উত্তর তখনই না দিলে তারা অনেক সময় অসন্তুষ্ট হয়।

৬. বর্তমানে ই-কমার্সের ব্যবসা খুবই প্রতিযোগিতামূলক।

৭. গ্রাহকরা কেনার আগে তা চেক করতে পারবেন না।

৮. সাইট ক্রাশ বা বন্ধ হলে কেউ কিনতে পারে না ই-কমার্স সাইট থেকে

লেখা চলবে...